ছাত্রীকে লাথি: অভিযুক্তকে মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করল পুলিশ
প্রতিকি ছবি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালের পর অভিযুক্ত কিশোর দিলশাদকে আটকের পর তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
শনিবার (৮ জুলাই) পরিবারের সহযোগিতায় রংপুর থেকে তাকে আটক করা হয়।
তবে বয়স কম হওয়ায় এবং কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় তাকে ছয় মাসের জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তার নজরদারিতে কাউন্সেলিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকার একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া।
জানা গেছে, প্রায় একমাস আগে কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী কাঁচপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে ঘুরতে যায়। এ সময় দিলশাদ পেছন থেকে এক ছাত্রীকে লাথি মারে। এ ঘটনার ভিডিও তার এক সহযোগী মুঠোফোনে ধারণ করে। গত বৃহস্পতিবার থেকে ভিডিওটি ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
পরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সির নির্দেশে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোনারগাঁ থানা পুলিশ রংপুর থেকে দিলশাদকে আটক করে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সমাজসেবা বিভাগের প্রবেশন অফিসার নূর ফারজানা জানান, আগামী ছয় মাস প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে দিলশাদের নিয়মিত কাউন্সেলিং চলবে। এ সময়ে কিশোরকে বাবা-মাসহ প্রতিমাসে দুই-তিনবার হাজিরা দিতে হবে।
এদিকে ভিডিও ভাইরালের পর ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে বিদ্যালয় থেকে টিসি দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তার বাবা শাহীন মিয়া অভিযোগ করেন, স্কুল চলাকালে বাইরে থাকার অভিযোগে তার মেয়েকে টিসি দেওয়া হয়েছে। তবে কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়নি, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে টিসি দেওয়া হবে, এ মর্মে অভিভাবকদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
লেখক ও কবি শাহেদ কায়েস বলেন, লাথির শিকার শিশুটির পাশে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দাঁড়ানো উচিত ছিল। তাকে স্কুল ছাড়ার পরিস্থিতিতে ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে শিশুটিকে নিরাপদে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।