সন্তানদের আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে নিজ বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর আত্মহত্যা

সন্তানদের আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে নিজ বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর আত্মহত্যা

ছবিঃ সংগৃহীত।

ভারতের তেলেঙ্গানার নিজামাবাদে এক মর্মান্তিক পারিবারিক ট্র্যাজেডিতে অনাথ হয়ে পড়েছে দুই শিশু আয়ুশ ও মিথুন। স্বজনদের বাড়িতে কয়েক ঘণ্টার জন্য রেখে যাওয়া বাবা-মাকে যে আর কোনোদিন দেখতে পাবে না—তা হয়তো কল্পনাই করতে পারেনি তারা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নিজ বাসভবনে আত্মহত্যা করেছেন এই দম্পতি। খবর এনডিটিভির। 

মৃতরা হলেন ৩০ বছর বয়সি শেষলা মেঘনা এবং তার স্বামী শেষলা নরেশ। চরম এই পদক্ষেপ নেওয়ার আগে দম্পতি তাদের দুই সন্তানকে আত্মীয়ের বাড়িতে দিয়ে এসেছিলেন। 

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বেশ কিছু দিন ধরে পারিবারিক জটিলতা এবং চরম আর্থিক অনটনে ভুগছিল পরিবারটি। এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তারা এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই চিরকুটে তাদের এই মর্মান্তিক সিদ্ধান্তের পেছনে আর্থিক অনটন, শারীরিক অসুস্থতা এবং তীব্র বিষণ্ণতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

নিহত নরেশ বিদ্যুৎ বিভাগে ‘লাইনম্যান’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং মেঘনা ছিলেন গৃহিণী। নরেশ দীর্ঘদিন ধরে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন এবং বিষণ্ণতার জন্য তার চিকিৎসাও চলছিল বলে জানান তার মামা মোহন।

পরিবারের অন্য সদস্যরা পুলিশকে জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো পারিবারিক কলহ বা বিরোধের কথা তাদের জানা ছিল না এবং এই ঘটনায় অন্য কোনো সন্দেহজনক বিষয় তারা লক্ষ্য করেননি।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করেছে। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে পুলিশ সুইসাইড নোট ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।