প্রাইম ফাইন্যান্সের সামনে আমানতকারীদের বিক্ষোভ
সংগৃহীত
সঞ্চয় রাখা অর্থ ফেরত না পাওয়ায় রাজধানীর দিলকুশায় প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ আমানতকারীরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) দুপুরে দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকার পিএফআই টাওয়ারের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
আমানতকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের অর্থ আটকে থাকলেও পাওনা পরিশোধে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অর্থ ফেরতের বিষয়ে নানা ধরনের আশ্বাস ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কারও সংসার চালানো, কারও চিকিৎসা, আবার কারও সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রাইম ফাইন্যান্স ইনভেস্টরস গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কাছে সাধারণ আমানতকারী ও মানুষের প্রায় ৩২৮ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকট ও অনিয়মের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, তারা কোনো অনুদান বা বিশেষ সুবিধা চাইছেন না। তারা নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত চান। অনেকের কাছে এই অর্থই ছিল জীবনের শেষ সঞ্চয়। অর্থ ফেরত না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
আমানতকারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের তহবিলের প্রায় ৭৬ শতাংশ অর্থ প্রাইম ফাইন্যান্সের সহযোগী ও অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নে ব্যবহার করা হয়েছে। এটিকে তারা পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার গুরুতর অবহেলার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সমাবেশে ভুক্তভুগী সৈয়দ মুখলেসুর রহমান বলেন, “সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেই একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় রেখেছেন। এখন সেই অর্থ ফেরত পেতে তাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে। ”
শিক্ষিকা ডলি জিন্নাত বলেন, “অর্থ আটকে যাওয়ার কারণে অনেক পরিবার কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে। নিজেদের প্রয়োজনের সময় নিজের সঞ্চয় ব্যবহার করতে না পারা একজন আমানতকারীর জন্য অত্যন্ত কষ্টের।” তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং প্রতিটি আমানতকারীর পাওনা ফেরতের সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানান।
ওমর শরীফ আরেফিন বলেন, প্রাইম ফাইন্যান্সের সংকটের দায় আমানতকারীদের ওপর চাপানো যাবে না। প্রতিষ্ঠানটি জনগণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ভিত্তিতে। তাই এখন আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।”
আমানতকারীরা তাদের দাবির মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রাইম ফাইন্যান্সের কার্যক্রমে বিশেষ প্রশাসক বা কমিটির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং মূল অর্থ ও অর্জিত মুনাফাসহ পাওনা পরিশোধের সময়বদ্ধ পরিকল্পনা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
এ ছাড়া আমানতকারীদের অর্থ কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানতে পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিটের দাবি জানানো হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, সহযোগী ও অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথি, ডিজিটাল ডেটা, সার্ভার, বোর্ড সভার কার্যবিবরণী ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং অনিয়মের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তাদের পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়ায় কোনো গোপন সমঝোতা বা বিশেষ সুবিধা দেওয়া যাবে না। আংশিক অর্থ ফেরতকে পূর্ণ পাওনা পরিশোধ হিসেবে দেখিয়ে আমানতকারীদের ওপর কোনো ধরনের ছাড়পত্র বা সমঝোতায় স্বাক্ষরের চাপও দেওয়া যাবে না।
তাদের মূল দাবিগুলো হলো— সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, জনসমক্ষে তথ্য প্রকাশ এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অর্থ ফেরতের পরিকল্পনা ঘোষণা। আমানতকারীরা স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় নামমাত্র অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিতে রাজি নন।
এ ব্যাপারে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।