গ্যাস সংকট: নারায়ণগঞ্জের বন্ধ কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা

গ্যাস সংকট: নারায়ণগঞ্জের বন্ধ কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা

ছবিঃ সংগৃহীত।

প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুধবার টিবিএসকে বলেন, “গ্যাস সংকট শুরুর পর থেকেই আমাদের কারখানা বন্ধ। শ্রমিকদের মধ্যে চাকরি হারানোর ভয় আছে। তারা যেন অসন্তোষ প্রকাশ না করেন, সে জন্য মালিকপক্ষ পরিচ্ছন্নতা ও কারখানা মেরামতের কাজ করাচ্ছে।”

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার সৈকত টেক্সটাইলের ভেতরে সারি সারি কাপড় পড়ে আছে। কিন্তু গ্যাস সংকটে ডাইং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কারখানায় কোনো উৎপাদন হচ্ছে না। শেডে চলছে ঝালাইয়ের কাজ। ভেতরে অল্প কয়েকজন শ্রমিক দেখা গেলেও তাদের কোনো উৎপাদনকাজ নেই।

প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুধবার টিবিএসকে বলেন, "গ্যাস সংকট শুরুর পর থেকেই আমাদের কারখানা বন্ধ। শ্রমিকদের মধ্যে চাকরি হারানোর ভয় আছে। তারা যেন অসন্তোষ প্রকাশ না করেন, সে জন্য মালিকপক্ষ পরিচ্ছন্নতা ও কারখানা মেরামতের কাজ করাচ্ছে।"

তিনি বলেন, "আমাদের কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাস নেই। আপাতত কারখানার ভেতরে সংস্কারকাজ করছি। গ্যাস পেলে আবার চালু করা হবে। প্রতিনিয়ত আমাদের বিপুল পরিমাণ লোকসান হচ্ছে।"

ফতুল্লা এলাকার অন্যান্য ডাইং ও টেক্সটাইল কারখানাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং কারখানা ঘুরে দেখা যায়, যান্ত্রিক আওয়াজের বদলে সেখানে নীরবতা। নিরাপত্তাকর্মী ও কারখানা তদারকির দায়িত্বে থাকা কয়েকজন স্টাফ ছাড়া কেউ নেই। কর্মকর্তারা কারখানায় থাকলেও শ্রমিকরা হাজিরা দিয়েই চলে গেছেন। বিশাল মেশিনগুলোও অলস পড়ে আছে।

ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিংয়ের জিএম তুষার বলেন, "কারখানা পুরোপুরি বন্ধ। আমার আশপাশের সব ডাইং কারখানার একই অবস্থা। ১ বা ১ দশমিক ৫ পিএসআই গ্যাস দিয়ে কিছুই করা সম্ভব নয়। আমরা পুরো কারখানা বন্ধ করে রেখেছি।"

ব্যবসায়ীরা জানান, নারায়ণগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোতে ১৫ আগস্ট থেকে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও পরে আবার সংকট তীব্র হয়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান ডাইং ও টেক্সটাইল সেকশন বন্ধ রেখেছে।

বুধবার ফতুল্লার বেশ কয়েকটি কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, যেসব কারখানা ৫০ পিএসআই লাইনের গ্যাস ব্যবহার করে, তাদের উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ। তারা পাচ্ছে মাত্র ১ থেকে ১ দশমিক ৫ পিএসআই গ্যাস।

অন্যদিকে ১৫০ পিএসআই লাইনের গ্যাস ব্যবহারকারী কারখানাগুলো কোনোভাবে একটি বা দুটি মেশিন চালু রাখতে পারছে। তারা পাচ্ছে ৬ থেকে ৮ পিএসআই গ্যাস, যা স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট নয়।

মডেল ডি ক্যাপিটাল গ্রুপের জিএম মনির সরদার বলেন, "আমাদের কারখানায় যে পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছি, তা দিয়ে কোনোভাবে ডাইং সেকশন চালানো যায়। আমরা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে কারখানা সচল রেখেছি। এতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। তারপরও ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছাতে অতিরিক্ত খরচ করেই কারখানা পুরোদমে চালু রাখা হচ্ছে।"

বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, "আমাদের সদস্যভুক্ত অন্তত ১৫২টি কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাড়তি জ্বালানি ব্যবহার করে এ উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। অনেক মালিক কারখানা বন্ধ করে রেখেছেন। একটি কারখানা ইতোমধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।" 

"যদিও তাদের আগের কিছু জটিলতা ছিল, তবে সর্বশেষ গ্যাস সংকটের কারণে তারা আর কারখানা চালিয়ে নেয়নি। পুরো ডাইং শিল্পের ব্যবসায়ীরা এখন ঝুঁকিতে আছেন," যোগ করেন তিনি।