নজরুল পদক পেলেন আবদুল হাই শিকদার ও শবনম মুশতারী

নজরুল পদক পেলেন আবদুল হাই শিকদার ও শবনম মুশতারী

ফাইল ছবি

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী কবি নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে সোমবার নজরুলচর্চায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কবি ও নজরুল-গবেষক, দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার এবং নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারীকে ‘নজরুল পদক-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত এই পদক আবদুল হাই শিকদারকে তুলে দেন প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। নজরুল-শিল্পী শবনম মুশতারীর পদক গ্রহণের কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হতে পারেননি। তার পদক পরবর্তীতে তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষ্যে ‘গাহি সাম্যের গান’ প্রকাশনার মোড়ক উম্মোচন করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে আরও ছিল আন্তর্জাতিক নজরুল-বক্তৃতামালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক নজরুল চর্চা কেন্দ্রের মহাসচিব প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান শেলী। সভাপতিত্ব করেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভাগীয় ও দপ্তর প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, নজরুল পদকের জন্য নির্বাচিত দুই গুণীজন এ সম্মাননার জন্য সর্বোচ্চ উপযুক্ত। তাদের সাহিত্য, গবেষণা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পদক দিতে পেরে গর্বিত। শবনম মুশতারীর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

নজরুল পদক-২০২৬ প্রাপ্ত কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, অন্য যে কোনো জায়গা থেকে সম্মাননা পাওয়ার চেয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘নজরুল পদক’ পাওয়া তার জন্য বিশেষ সম্মানের। কারণ, এ পদক জাতীয় কবির নামের সঙ্গে যুক্ত এবং তারই নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া হচ্ছে।

বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলার কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক নজরুল-বক্তৃতামালা। ৩টি অধিবেশনে মোট ৬টি প্রবন্ধ পাঠ করা হয়। এতে দেশ-বিদেশের নজরুল-গবেষক, শিক্ষক ও প্রাবন্ধিকরা অংশ নেন।

বক্তৃতামালার প্রথম অধিবেশনে কবি আবদুল হাই শিকদারের সভাপতিত্বে ‘স্মৃতিতে নজরুল : প্রসঙ্গ মুজফ্ফর আহমদের কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা’ ও ‘কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যে আত্মদর্শন’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. পারভীন আক্তার জেমী এবং চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুন্সি আবু সাইফ। আলোচনায় অংশ নেন নজরুল-গবেষক পীযূষ কুমার ভট্টাচার্য্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ড. কল্পনা হেনা রুমি।

দ্বিতীয় অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদার সভাপতিত্বে ইংরেজিতে নজরুলবিষয়ক দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-গবেষকরা এতে অংশ নেন। তৃতীয় অধিবেশনে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)-এর সভাপতিত্বে ‘মাহে নও সচিত্র মাসিক পত্রিকায় নজরুলচর্চা’ ও ‘নজরুল কাব্যে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক বিদ্রোহ’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকরা অংশ নেন।

বক্তৃতামালার প্রথম অধিবেশন শেষে যুগান্তর সম্পাদক, কবি আবদুল হাই শিকদারকে যুগান্তর স্বজন সমাবেশের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় যুগান্তরের ময়মনসিংহ ব্যুরো অফিসের স্টাফ রিপোর্টার অমিত রায়, ত্রিশাল প্রতিনিধি খোরশিদুল আলম মজিব, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম, স্বজন সমাবেশের সভাপতি রিয়াজুল ইসলামসহ স্বজন বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় নবনির্মিত টিএসসি ভবনে আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনব্যাপী ১২৭তম নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠানমালা।