পছন্দের মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে দোয়া করা যাবে কি?

পছন্দের মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে দোয়া করা যাবে কি?

সংগৃহীত ছবি

মানুষের হৃদয় অত্যন্ত কোমল ও অনুভূতিশীল। কোনো নির্দিষ্ট মানুষ বা চরিত্রের প্রতি ভালোলাগা তৈরি হওয়া এবং তাকে নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে কাছে পাওয়ার সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি মানবিক বিষয়। তবে একজন মুমিনের প্রতিটি অনুভূতি ও চাহিদা প্রকাশের সর্বোত্তম স্থান হলো মহান রব্বে কারিমের দরবার।

পছন্দের কোনো মানুষকে বিয়ে করার ইচ্ছা হলে আল্লাহর কাছে সরাসরি হাত তুলে দোয়া করা যাবে কি না, কিংবা এতে কোনো গুনাহ হবে কি না— তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় থাকে। আসুন, ইসলামের আলোকে বিষয়টি জেনে নিই—

নির্দিষ্ট কাউকে পাওয়ার জন্য দোয়া করা কি জায়েজ?

হ্যাঁ, নির্দিষ্ট কোনো পুরুষ বা নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করা সম্পূর্ণ জায়েজ। তবে মনে রাখতে হবে, মানুষের জ্ঞান সীমাবদ্ধ। কোনো মানুষ বাহ্যিকভাবে দেখতে বা ভাবতে যত সুন্দরই মনে হোক না কেন, তার সঙ্গে জীবনের পথচলা বাস্তবে দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য কল্যাণকর হবে কিনা, তা কেবল সর্বজ্ঞ আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। তাই কেবল নির্দিষ্ট কাউকে পাওয়ার জন্য অনড় হয়ে দোয়া না করে, কল্যাণ ও মঙ্গলের শর্ত জুড়ে দিয়ে দোয়া করাই সবচেয়ে উত্তম ও নিরাপদ।

দোয়ার সর্বোত্তম পদ্ধতি

‘হে আল্লাহ! অমুককে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার মধ্যে যদি আমার দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য প্রকৃত কল্যাণ থেকে থাকে, তবে তাকে আমার জীবনসঙ্গী হিসেবে নির্ধারণ করে দিন এবং তাকে পাওয়া আমার জন্য সহজ করে দিন। আর যদি এতে কোনো অকল্যাণ থাকে, তবে তাকে আমার মন থেকে ফিরিয়ে দিন এবং আমার জন্য সর্বোত্তম ও কল্যাণকর জীবনসঙ্গী দান করুন।’

দ্রুত বিয়ে ও উত্তম জীবনসঙ্গী লাভের ২টি কোরআনি দোয়া

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা আমাদের অত্যন্ত কার্যকর দুটি দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন, যার মাধ্যমে আমরা দ্রুত বিয়ে এবং সৎ ও চক্ষুশীতলকারী জীবনসঙ্গীর জন্য প্রার্থনা করতে পারি। তাহলো—

১. মুমিনদের বিশেষ দোয়া

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে আদর্শ মুমিনদের একটি বৈশিষ্ট্য ও দোয়া বর্ণনা করে বলেন—

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

উচ্চারণ: ‘রব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াঝিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাত আ’ইউনিও ওয়াঝআলনা লিলমুত্তাক্বিনা ইমামা।’

অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন জীবনসঙ্গী ও সন্তানাদি দান করুন, যারা আমাদের চোখ শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকিদের জন্য নেতা বানিয়ে দিন।’ (সুরা আল-ফুরকান: আয়াত ৭৪)

২. হজরত মুসা (আ.)-এর ঐতিহাসিক দোয়া

হজরত মুসা (আ.) যখন নিজের জন্মভূমি মিসর ছেড়ে মাদায়েনে গিয়ে চরম নিঃসঙ্গ ও অসহায় অবস্থায় পড়েছিলেন, তখন তিনি মহান আল্লাহর দরবারে এই বিনম্র দোয়াটি করেছিলেন—

رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ

উচ্চারণ: ‘রব্বি ইন্নি লিমা আংযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকির।’

অর্থ: ‘হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে শুভ ও অনুগ্রহ নাজিল করবেন, নিশ্চয়ই আমি তার মুখাপেক্ষী।’ (সুরা আল-কাসাস: আয়াত ২৪)

হজরত মুসা (আ.)-এর এই আকুল প্রার্থনার বরকতে মহান আল্লাহ তাআলা কেবল তার থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থাই করেননি, বরং অত্যন্ত সম্মানিত পরিবারে তার জন্য একজন সুচরিত্রবান ও উত্তম জীবনসঙ্গীরও ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।

ভালোবাসা ও বিবাহ কেবল পার্থিব সম্পর্ক নয়, এটি একটি মহিমান্বিত ইবাদত ও ভালোবাসার বন্ধন। পছন্দের মানুষকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলে তা কোনো অসদুপায়ে না খুঁজে, আল্লাহর দরবারে দোয়ার মাধ্যমে চাওয়া এবং সৎ নিয়তে বিয়ের চেষ্টা করাই ইমানের দাবি।

সবশেষে আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা উচিত; কারণ আমরা যা পছন্দ করি তা সর্বদা আমাদের জন্য কল্যাণকর নাও হতে পারে, কিন্তু আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেন, সেটাই চূড়ান্ত সাফল্য ও প্রশান্তি বয়ে আনে।