তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে দক্ষ করাই লক্ষ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী

তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে দক্ষ করাই লক্ষ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কাজে দক্ষ করে তুলতে সিলেটে কয়েকটি AI ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমে সিলেটে কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে বিভাগের অন্যান্য জেলায় তা সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং ও আন্তর্জাতিক আইটি খাতে কাজের উপযোগী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ বাড়াতে চায় সরকার।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে জালালাবাদ ছাত্রকল্যাণ সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুরুতে আমরা সিলেটে শুরু করব, তারপর বিভাগের অন্য জেলাগুলো নিয়ে যাব। এখানে আমরা কয়েকটি AI ট্রেনিং সেন্টার করব।’ 

তিনি বলেন, দেশে-বিশেষ করে সিলেটে ফ্রিল্যান্সিংয়ের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক তরুণ বর্তমানে মাসে ৫০০ থেকে ২ হাজার, ৪ হাজার এমনকি ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করছেন। উচ্চ পর্যায়ের কিছু ফ্রিল্যান্সারের আয় এর চেয়েও বেশি।

মন্ত্রী বলেন, এই সম্ভাবনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে AI প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একঝাঁক তরুণ-তরুণীকে উপার্জনক্ষম করে তুলতে হবে। তারা ফ্রিল্যান্সিং ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কাজের মাধ্যমে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আনতে পারবেন। একই সঙ্গে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর আইটি-সংশ্লিষ্ট কাজ বাংলাদেশে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে।

দেশের উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গবেষণায় বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের যেসব দেশ টেকসইভাবে এগিয়েছে, তাদের মৌলিক বিনিয়োগের বড় ক্ষেত্র ছিল স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন।

তিনি বলেন, গবেষণায় বড় পরিসরে বিনিয়োগের পর্যায়ে যাওয়ার আগেই বাংলাদেশকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য এ দুই খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন।

সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকারের দু’টি ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পর্যায়ক্রমে এ দুই খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রতিটি খাতে জিডিপির ৫ শতাংশের সমপরিমাণ বিনিয়োগের লক্ষ্য রয়েছে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এবং সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগবে।

সিলেটের শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার ও শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে। বিদ্যালয়ের সংখ্যা, পাসের হার, প্রাথমিক শিক্ষার মান এবং শিক্ষার্থীদের পড়া ও গণিতের মৌলিক দক্ষতার ক্ষেত্রেও জাতীয় গড়ের তুলনায় পিছিয়ে থাকার চিত্র রয়েছে।

তবে এর পেছনে সিলেটের মানুষের মেধা বা সক্ষমতার ঘাটতি নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, যুক্তরাজ্য, উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিলেটের বিপুলসংখ্যক মানুষ শিক্ষা, রাজনীতি, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন। তাই শিক্ষায় পিছিয়ে থাকার কারণ খুঁজতে অবকাঠামো, প্রতিষ্ঠানগত সক্ষমতা, নেতৃত্ব ও অন্যান্য কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার দিকে নজর দিতে হবে।

উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, গবেষণা, উদ্ভাবন ও দেশ গঠনের উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যাতে তারা নিজেদের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের জন্যও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পেশাগত জীবনে সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা ও অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইউম চৌধুরী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আলী মোহাম্মদ কাওছার, আগামীর সময়-এর সম্পাদক মোস্তফা মামুন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহদীন চৌধুরী ও ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সিলেট বিভাগের তিন জেলার নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষাজীবন শেষ করা কৃতি শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।