বরগুনায় ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
প্রতিকি ছবি
বরগুনায় ধর্ষণ মামলায় মো. মাহবুব কারিকর নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি এ রায় দেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়, পাথরঘাটা উপজেলার বাইনচকী গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. মাহবুব কারিকরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশোধিত ২০০৩ সালের ৯(১) ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তাকে ওই ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী মোসা. রিনা বেগম পাবেন বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৩ জুন ভুক্তভোগী রিনা বেগমকে বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার জামাতার বাড়ি থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে যান মাহবুব কারিকর। সেখানে গিয়ে আসামি কৌশলে রিনার জামাতাকে একটি হোটেলে পানি পান করতে পাঠিয়ে ভুক্তভোগীকে নিয়ে চলে যান। পরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় রিনার বাবা, পাথরঘাটা উপজেলার বাসিন্দা মৃত মমিন উদ্দিনের ছেলে মো. খবির গাজী ২০১৪ সালের ২৩ জুন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
মামলাটি দীর্ঘ ১২ বছর বিচারাধীন থাকার পর সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে রোববার আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট রনজুয়ারা সিপু জানান, রাষ্ট্রপক্ষ মোট ৯ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়েছে। যুক্তিতর্ক শুনানির দিন আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন। রোববার আদালতে আসামির উপস্থিতিতে রায় পড়ে শোনানো হয়। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।