দেনমোহর পরিশোধের আগে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকতে পারবেন?
ফাইল ছবি
বিয়ের মাধ্যমে দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন বান্দা বিয়ে করে, তখন সে তার দ্বীনের অর্ধেক পূরণ করে। অতএব, বাকি অর্ধেকাংশে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।’ (মুসতাদরাক হাকিম, হাদিস: ২৭২৮)
স্বামীর জন্য স্ত্রীকে ওয়াজিব। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আজ তোমাদের জন্য সমস্ত ভাল জিনিস হালাল করা হলো ও যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের খাদ্যদ্রব্য তোমাদের জন্য হলাল এবং তোমাদের খাদ্যদ্রব্য তাদের জন্য বৈধ। আর মুমিন সচ্চরিত্রা নারী ও তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারীদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হল, যদি তোমরা তাদের মোহর প্রদান কর বিয়ের জন্য, প্রকাশ্য ব্যভিচার বা গোপন প্রণয়িনী গ্রহণকারী হিসেবে নয়। আর কেউ ঈমানের সাথে কুফরী করলে তার কর্ম অবশ্যই নিষ্ফল হবে এবং সে আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে(সুরা মায়েদা. আয়াত: ৫)
বিয়েতে যে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় তা আদায় করা ওয়াজিব। আদায়ের ক্ষেত্রে অবহেলা করলে বা ইচ্ছা করে আদায় না করলে কঠিন শাস্তি পেতে হবে।
দেনমোহর আদায়ের ক্ষেত্রে উত্তম হচ্ছে বাসর রাতে (সহবাসের পূর্বে) ওই দেনমোহর পরিশোধ করে দেওয়া। কেননা এটি স্ত্রীর হক বা প্রাপ্য। একই সঙ্গে এটি স্বামীর দায়িত্বে একটা ঋণ, যা অন্যান্য ঋণের মতো পরিশোধ করা জরুরি।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আর তোমরা নারীদেরকে সন্তুষ্টচিত্তে তাদের মোহর দিয়ে দাও, অতঃপর যদি তারা তোমাদের জন্য তা থেকে খুশি হয়ে কিছু ছাড় দেয়, তাহলে তোমরা তা সানন্দে তৃপ্তিসহকারে খাও। (সুরা নিসা, আয়াত: ৪)
দেনমোহর আদায় করা ওয়াজিব এবং স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর আগেই দেনমোহর পরিশোধ করা উত্তম। তবে মোহরানা আদায় না করার কারণে স্বামী-স্ত্রীর দৈহিক সম্পর্ক হারাম হবে না। কিন্তু মোহরানা আদায়ের আগে স্ত্রী চাইলে স্বামীকে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর বিষয়ে বাধা প্রদান করতে পারবেন। অবশ্য মোহরানা বাকি ধার্য হলে অর্থাৎ একসঙ্গেই সব পরিশোধ না করে পরবর্তীতে ধীরে ধীরে পরিশোধ করা হবে এভাবে ধার্য করা হলে স্ত্রী স্বামীকে সহবাসে বাধা প্রদান করতে পারবে না। তবে যতদ্রুত সম্ভব স্বামীর জন্য স্ত্রীর মোহরানা পরিশোধ করা জরুরি।
বিয়েতে মোটা অংকের মোহরানা নির্ধারণকে মর্যাদার মনে করে অনেকে। অথচ এটা মর্যাদাকর কোনো ব্যাপার নয়। বরং মোটা অংকের মোহর নির্ধারণ করে তা আদায় করতে না পারা অমর্যাদা এবং অসম্মানজনক।
হাদিস শরিফে এসেছে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘সর্বোত্তম মোহরানা হচ্ছে সহজসাধ্য মোহরানা’। (বাইহাকি, হাদিস: ১৪৭২১)