মিয়ানমারকে আঞ্চলিক সম্প্রদায়ে যুক্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে মালয়েশিয়া
ছবিঃ সংগৃহীত।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করতে তার সরকার ‘যা সম্ভব, সবকিছুই’ করবে।যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানে পুরোপুরি আবার যুক্ত করতেও কাজ করবে মালয়েশিয়া।
বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ কথা বলেন।
সাবেক জান্তা প্রধান হ্লাইং দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ব্যাপকভাবে সমালোচনা করেছে।তারা এটিকে সাজানো নির্বাচন বলে আখ্যা দিয়েছে।
২০২১ সালে হ্লাইং একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। এর পর থেকেই মিয়ানমারে অস্থিরতা চলছে। দেশটিতে শুরু হয় দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ।
আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর উদ্যোগে করা একটি শান্তি পরিকল্পনা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২১ সাল থেকে হ্লাইং ও মিয়ানমারের অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের আসিয়ানের সম্মেলনে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ। তবে জোটের কয়েকটি সদস্য দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে আবার সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর হ্লাইং আসিয়ানের সদস্য থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামও সফর করেছেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান উদ্বেগের কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, মতপার্থক্যকে সম্মান করতে হবে।
হ্লাইং সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বৈঠকের পর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আনোয়ার বলেন, ‘আমি বলতে চাই, মালয়েশিয়া হিসেবে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যা সম্ভব, সবকিছুই করব। আমরা এই সহযোগিতা আরও বাড়াতে চাই। শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষপাত ছাড়াই মিয়ানমারকে আমাদের দেশগুলোর সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে নিতে চাই। বিশেষ করে আসিয়ানের প্রেক্ষাপটে আমরা এটি করতে চাই।’
মালয়েশিয়া থেকে ১০ হাজার ৪৯৩ জন মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেওয়ায় হ্লাইংকে ধন্যবাদও জানান আনোয়ার। মালয়েশিয়া জানিয়েছে, তারা আর মিয়ানমার থেকে শরণার্থী নিতে পারবে না। দেশটির দাবি, শরণার্থীরা এখন আর্থিক বোঝা ও নিরাপত্তাঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
গত মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষকে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজে করে দেশটিতে ফেরত পাঠায় মালয়েশিয়া। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সতর্কতা উপেক্ষা করেই তাদের ফেরত পাঠানো হয়। সংস্থাগুলো বলেছিল, চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে দেশে ফিরে যাওয়া এসব মানুষ গুরুতর বিপদের মুখে পড়তে পারেন।