সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তিস্তা নদীতে দুটি খাল খনন করার খবর প্রকাশ হবার পর, বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
তিস্তা
তিস্তা নদীতে নতুন করে খাল খনন করে পানি প্রত্যাহারের বিষয়ে ভারতের কাছে নোট ভারবাল (কূটনৈতিক পত্র) দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ।
তিস্তার পানি আরো সরিয়ে নিয়ে কৃষিকাজে ব্যবহার করবে পশ্চিমবঙ্গ। দুটি নতুন খাল খনন করে এই পানি নেয়া হবে বলে জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ। খাল খনন করতে পশ্চিমবঙ্গ সেচ বিভাগ এক হাজার একর জমি বুঝে পেয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত খুব শিগগির কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।রোববার (৯ অক্টোবর) দুপুরে নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ভারত সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ, ভারত ও এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই এবং শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান মূলত ভারতের ওপর নির্ভর করছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বাড়তে থাকে এবং বিকেল ৩টার পর থেকে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন করে বন্যায় লালমনিরহাটের ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ভাঙন মারাত্মক রূপ নিয়েছে। গত এক সপ্তাহে তিস্তা নদীর তীরবর্তী বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
ভারতে উজানের ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে ফের বাড়তে শুরু করেছে তিস্তার পানি। কয়েক সপ্তাহ পানি কম থাকলেও সোমবার দুপুর থেকে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তার পানি।পানির চাপ মোকাবিলায় ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।