অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) নেতৃবৃন্দের সাথে আজ বৈঠকে বসছেন।
বন্যা পরিস্থিতি
টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজানের পানিতে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় কবলিত হয়েছে দেশের ১১ জেলা। আগামী তিন দিনে বৃষ্টিপাত আরও কমবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলায়ও ভারী বৃষ্টি হয়নি। এতে উজানের নদ-নদীর পানি সমতলে কমছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
টানা ভারীবর্ষণ এবং ভারত থেকে আসা পানিতে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। তবে এরই মধ্যে আশার বাণী শুনিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল ইসলাম।
মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত। ভারি ও অতিভারী বৃষ্টির কারণে এই বন্যা দেখা দিয়েছে। ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে পরিস্থিতি হয়েছে আরও ভয়াবহ।
দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতিতে বন্যাদুর্গত মানুষকে উদ্ধার, জানমালের নিরাপত্তা ও ত্রাণ সাহায্য বিতরণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রতি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংসদ।
নোয়াখালীতে ফেনীর মহুরী নদীর পানি ঢুকছে। এতে জেলার নয়টি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ।
ফেনীতে বন্যা পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। মুহুরি, সিলোনিয়া, কহুয়া নদীর ১৫টি স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় কমপক্ষে ৭০ থেকে ৮০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি আছে। ৬৫ পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতের আসাম রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের তাণ্ডবে একদিনের ব্যবধানে প্লাবিত হয়েছে আরও অন্তত চারটি জেলা।
ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত রয়েছে। বাঁধ ভাঙা এলাকা থেকে পানি অনেকটা সড়ে গেলেও নতুন নতুন এলাকায় প্লাবিত হয়েছে।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এতে নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে।রোববার (২৩ জুন) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে।