ডায়েট করলে দ্রুত ওজন ঝরে, এ কথা ঠিক। তবে সেই ওজন দীর্ঘ দিন ধরে রাখা যায় না। শরীরে মেদ জমার সবচেয়ে বড় কারণ আমাদের অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। অতিরিক্ত ওজন মানেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ এমনকি ক্যানসারের মতো বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
রক্তচাপ
বাংলাদেশের শহুরে জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় প্রতি চারজনের একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। আর ১৪ শতাংশ মানুষ ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন তাদের এক গবেষণার এসব তথ্য বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করে।
হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরণের ভুল ধারণা আছে। অনেকে মনে করেন, কারো অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করার প্রবণতা থাকলে হয়ত সেটিকে হাইপারটেনশন বলে।
দেশে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ও কিডনি বিকলসহ বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগে মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। এসব মৃত্যুর সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এটিই অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞরা জানান, উচ্চ রক্তচাপসহ অন্য সব রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে অকাল মৃত্যু দ্রুত কমানো সম্ভব।
উচ্চ রক্তচাপ কমাতে অনেকেই নানা ওষুখ খেয়ে থাকেন। সেই ওষুধ যে একবার খেয়ে মুক্তি পাওয়া যায়, তাও নয়। বছরের পর বছর খেয়েই যেতে হয় সেই ওষুধ। কিন্তু ওষুধ ছাড়াও এ থেকে মুক্তি সম্ভব। এমনই বলছে গবেষণা।
ব্যস্ততা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে স্ট্রেস। আর এর সঙ্গেই পরোক্ষভাবে জড়িয়ে থাকে শারীরিক নানা অসুবিধা। যেমন উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা। ডাক্তাররা জানাচ্ছেন স্ট্রেস এবং হাইপারটেনশন থেকেই উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়। এর থেকেই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকও হতে পারে যেকারও।
ওজন কমাতে চান? ভাবছেন, খাবারের তালিকা থেকে প্রথমেই বাদ দেবেন আলু? অনেকেরই ধারণা, আলু খেলেই মেদের বোঝা বাড়ে। এই ধারণাটা সম্পূর্ণ ঠিক নয়।
শুধু রক্তচাপ বাড়লেই না, প্রেসার বা রক্তচাপ লো হয়ে গেলেও অনেকেই চিন্তায় পড়েন! আর উচ্চ রক্তচাপের চেয়ে কোনো অংশেই কম বিপদের নয়।
নিঃশব্দে আমাদের শরীরে বাসা বাঁধে হাইপারটেনশন। সময় মতো ব্যবস্থা না নিতে পারলে এই রোগ প্রাণঘাতীও হতে পারে।
শতকরা ৯৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এই রোগের কারণ কী তা সুনির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল।