উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ‘নীরব ঘাতক’, কখন বিপদ নিয়ে আসবে, তা টের পাওয়া দুষ্কর। এই একটা সমস্যা ডেকে আনে আরো হাজারটা রোগ। তাই এই রোগ থেকে সাবধান।
রক্তচাপ
অনেকে বলেন, আমার ‘লো প্রেশার’, সব সময় রক্তচাপ কম থাকে। অনেকে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। আসলেই কি কারও লো প্রেশার বা নিম্ন রক্তচাপ থাকতে পারে? কেনই–বা হয়?
উচ্চ রক্তচাপ কমাতে অ্যারোবিক বা কার্ডিও ব্যায়াম কার্যকর। তবে নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, আরেকটি ব্যায়ামও উচ্চ রক্তচাপ কমাতে বেশ কার্যকর।
হাইপোটেনশন, নিম্ন রক্তচাপ নামেও পরিচিত। হাইপোটেনশন এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যেখানে ধমনির দেয়ালের বিরুদ্ধে রক্তের শক্তি স্বাভাবিকের চেয়ে কম। ৯০-৬০ মিলিমিটার অব মার্কারির নিচে থাকা একটি রিডিং সাধারণত কম বলে মনে করা হয়।
অত্যধিক হারে লবণ খাওয়ার কারণে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই লবণ খাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
মাথা ঘোরার অনুভূতি হলে কারো মনে হয়, তিনি নিজেই ঘুরছেন। আবার কারো মনে হয়, চারপাশের সবকিছু বনবন করে ঘুরছে।
ডায়েট করলে দ্রুত ওজন ঝরে, এ কথা ঠিক। তবে সেই ওজন দীর্ঘ দিন ধরে রাখা যায় না। শরীরে মেদ জমার সবচেয়ে বড় কারণ আমাদের অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। অতিরিক্ত ওজন মানেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ এমনকি ক্যানসারের মতো বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
বাংলাদেশের শহুরে জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় প্রতি চারজনের একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। আর ১৪ শতাংশ মানুষ ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন তাদের এক গবেষণার এসব তথ্য বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করে।
হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরণের ভুল ধারণা আছে। অনেকে মনে করেন, কারো অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করার প্রবণতা থাকলে হয়ত সেটিকে হাইপারটেনশন বলে।
দেশে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ও কিডনি বিকলসহ বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগে মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। এসব মৃত্যুর সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এটিই অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞরা জানান, উচ্চ রক্তচাপসহ অন্য সব রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে অকাল মৃত্যু দ্রুত কমানো সম্ভব।