শীতকালকে যেভাবে কাজে লাগাতে বলেছেন নবীজি

শীতকালকে যেভাবে কাজে লাগাতে বলেছেন নবীজি

ছবি: প্রতীকী

শীতকাল মুমিনের খুব প্রিয়। কারণ এই মৌসুমে ইবাদতের সুযোগ বেশি। দিনে রোজা, রাতে নফল ইবাদতে এই মৌসুমকে ভালোভাবেই কাজে লাগান প্রকৃত মুমিনরা। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (স.) বলেছেন, ‘শীতকাল হচ্ছে মুমিনের বসন্তকাল।’ (মুসনাদে আহমদ: ১১৬৫৬)

প্রিয়নবীজি শীতকালকে মুমিনের বসন্তকাল আখ্যা দেওয়ার বিশেষ কারণ রয়েছে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘শীতের রাত দীর্ঘ হওয়ায় মুমিন রাত্রিকালীন নফল নামাজ আদায় করতে পারে এবং দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখতে পারে।’ (বায়হাকি: ৩৯৪০)

প্রখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলতেন, ‘শীতকালকে স্বাগতম। কেননা তা বরকত বয়ে আনে। রাতগুলো দীর্ঘ হয়। ফলে তা ‘কিয়ামুল লাইলের জন্য (রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ) সহায়ক এবং দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখতে সহজ।’ (আল-মাকাসিদুল হাসানা: ২৫০)

ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.) বলেন, শীতকাল মুমিনদের বসন্ত। কারণ, এ সময়ে মুমিন আল্লাহর আনুগত্যের বাগানগুলোতে আনন্দ-উল্লসিত হয়। ইবাদত-বন্দেগির চারণভূমিতে বিচরণ করে। সহজ-ছোট আমলগুলোর কানন-বীথিতে পরিভ্রমণ করে। (লাতায়িফুল মাআরিফ ফিমা লিল মাওয়াসিমি মিনাল ওজায়িফ, পৃষ্ঠা-৩২৬)

কুয়াশা মোড়ানো শীতের মৌসুমে ইবাদতের সওয়াব বেশি। কারণ শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শীতের কষ্ট সহ্য করতে হয়। শীতের কষ্টকে পাত্তা না দিয়ে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজে দাঁড়াবে আল্লাহ তাআলা তাদের অনেক বড় পুরস্কার দিয়ে ধন্য করবেন। এমনকি সুন্দরভাবে অজু করলেই মিলবে অফুরন্ত সওয়াব। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন বিষয়ের সংবাদ দেব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের গুনাহগুলো মুছে দেবেন এবং (আল্লাহর নিকট) তোমাদের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করবেন? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসুল! নবী (স.) তখন বলেন, (শীত বা অন্যকোনো) কষ্টকর মুহূর্তে ভালোভাবে অজু করা।’ (সহিহ মুসলিম: ২৫১)

এরপর ঠাণ্ডাকালীন নামাজ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুই ঠাণ্ডার সময়ের নামাজ (ফজর ও এশা) আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সহিহ বুখারি: ৫৭৪)

উল্লেখিত দুটি হাদিস লক্ষ্য করুন-দুইটি বড় ফজিলত রয়েছে শীতের অজু ও নামাজে। একটি হলো গুনাহ মাফ অন্যটি সরাসরি জান্নাত। একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!

নবীজির হাদিস অনুযায়ী, শীতে আরও সওয়াব লাভের সুযোগ রয়েছে। যেমন- শীতার্ত মানুষের সেবা করার মাধ্যমে জান্নাত লাভের দারুণ সুযোগ লাভ হয় শীতকালে। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে মুমিন অন্য বিবস্ত্র মুমিনকে কাপড় পরিয়ে দিল, মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে জান্নাতের সবুজ কাপড় পরিয়ে দেবেন।’ (তিরমিজি: ২৪৪৯)

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে শীতকালকে কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।