‘নেচেগেয়ে’ পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চার্জশীট, অভিযুক্ত ৫

‘নেচেগেয়ে’ পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চার্জশীট, অভিযুক্ত ৫

প্রতিকি ছবি

চট্টগ্রাম নগরীতে ‘নেচেগেয়ে’ যুবক শাহাদাত হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। দীর্ঘ দেড় বছর তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, ‘মব’ তৈরি করে ছিনতাইকারী সন্দেহে শাহাদাতকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে লাশ অন্যত্র ফেলে দেওয়া হয়। 

গত ৮ এপ্রিল পাঁচলাইশ থানা পুলিশ চট্টগ্রাম আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে আসামি করা হয়- ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী, আনিসুর রহমান, মেহেদী হাসান ও মো. মাজেদকে। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে আলাদা ‘দোষীপত্র’ জমা দেয়া হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিএমপি’র পাঁচলাইশ থানার এসআই এস এম সফিউল আজম মুন্সী বলেন, ভিডিও ফুটেজ ও গ্রেফতারকৃতদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্তরা ছিনতাইকারী সন্দেহে শাহাদাতকে ট্রাফিক সিগন্যালের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। ভিডিওতে থাকা সোহান ও আসিফ উল মেজবাহ নামে আরও দুজনকে শনাক্ত করা গেলেও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না পাওয়ায় আপাতত তাদের আসামি করা যায়নি। ঠিকানা পেলে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হবে।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় হত্যার পর শাহাদাতের লাশ একটি সিএনজি টেক্সিতে করে আধা কিলোমিটার দূরে প্রবর্তক মোড় এলাকার একটি নালার পাশে ফেলে রাখা হয়। পরদিন ১৪ আগস্ট পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী খিচুড়ি বিক্রেতা মীর নাজমুল হোসেনসহ মোট ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। সাক্ষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুলিশ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছিল, সেই সুযোগে একদল উশৃঙ্খল যুবক এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাতে ২ নম্বর গেট এলাকায় এ পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু তরুণ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান গাইছে ও বাঁশি বাজাচ্ছে। সেই ‘উল্লাসের’ মধ্যেই স্টিলের পাইপে দুই হাত বাঁধা অবস্থায় নিথর হয়ে ঝুলে আছেন শাহাদাত, আর তাঁকে ঘিরে চলছে বেধড়ক মারধর।