ত্বকের যত্নে কফির ব্যবহার
ছবিঃ সংগৃহীত।
দিনের শুরুতে এক কাপ কফি অনেকের জন্যই এনার্জির উৎস। এটি শরীরকে চাঙা যেমন করে, সঙ্গে কাজের গতিও বাড়ায়।তবে কফি এখন শুধু পানীয় হিসেবেই নয়, ত্বকের যত্নেও বাড়ছে এর ব্যবহার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কফিতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে ফেনল জাতীয় উপাদান, যা ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে কাজ করে।
ফলে ত্বকের ক্ষতি কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের অন্যতম বড় উৎস হল কফি, যা চা বা ওয়াইনের চেয়েও বেশি।
ত্বকের যত্নে কফির নানা উপকার আছে। যেমন—
সেলুলাইট কমাতে সহায়ক
কফির ক্যাফেইন রক্ত চলাচল বাড়াতে পারে, ফলে সেলুলাইটের দাগ কম দেখা যায়।
স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করলে মৃত কোষ দূর হয়ে ত্বক মসৃণ হয়।
ত্বকের জ্বালা-পোড়া দূর করে
কফির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকে প্রশান্তিদায়ক প্রভাব ফেলতে পারে, যা জ্বালা-পোড়া বা অস্বস্তি কমাতে সহায়ক।
বয়সের ছাপ কমাতে পারে
গবেষণায় দেখাক গেছে, ত্বকের রোদে পড়া দাগ, লালচে ভাব ও সূক্ষ্ম বলিরেখা কমাতে কফি কিছুটা কার্যকর হতে পারে বলে।
ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা
কফিতে থাকা ভিটামিন বি-৩ (নিয়াসিন) ত্বকের কিছু ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
কফির ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড ও মেলানোইডিন ত্বকের প্রদাহ কমাতে এবং দাগ হালকা করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্রণ কমাতে সহায়ক
কফির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য ও স্ক্রাবিং ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, যা ব্রণ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
চোখের নিচের কালো দাগ হালকা করতে পারে
ক্যাফেইন রক্তনালি প্রসারিত করে কালচে ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। চোখের নিচের দাগের জন্য কফির গুঁড়া ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে হালকা করে লাগাতে হবে, ৫–১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।
রোদে পোড়া ভাব কমায়
কফি ত্বকের লালচে ভাব ও ফোলাভাব কমাতে পারে।
রোদে পোড়া ত্বকে ঠাণ্ডা কফি কাপড়ে ভিজিয়ে আলতো করে লাগানো যেতে পারে, দিনে কয়েকবার।
সেক্ষেত্রে, এক কাপ কফি বানিয়ে তাতে ঠাণ্ডা পানি মিশিয়ে পাতলা করতে হবে। একটি নরম কাপড় বা টিস্যু ভিজিয়ে ঠাণ্ডা কফিতে ভিজিয়ে নিয়ে আলতো করে পোড়া জায়গায় লাগিয়ে নিতে হবে।
দিনে কয়েকবার এভাবে ব্যবহার করলে লালচে ও ফোলা ভাব কমে যাবে।
কফির বহুমুখী ব্যবহার থাকলেও ত্বকে এর প্রভাব ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার করেও ফল না মিললে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নতুন কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করলে কিছুটা সময় দিয়ে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করাই ভালো।