মৌলভীবাজারে ৭০ পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ

মৌলভীবাজারে ৭০ পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ

সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন একদল তরুণ। কোনো সংগঠনের ব্যানার ছাড়াই গত ৬-৭ বছর ধরে তারা সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

এই উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন সৈয়দ ফজলে রায়হান নোহাস, ইমদাদুল হক মিলন, কামরুল ইসলাম, মুক্তাদির তালুকদার, মহসিন আহমেদ রাজ, তাহফিম আহমেদ, সৈয়দ মাজহারুল ইসলাম কাসেম, সৈয়দ আজহারুল ইসলাম, আবু সায়েদ তানজিম ও শেখ জাহিদসহ কয়েকজন তরুণ।

তাদের মানবিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এবার পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘মধ্যবিত্তের কোরবানি’ নামে একটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়। ঈদের দ্বিতীয় দিন মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ধীতেশ্বর গ্রামে কোরবানি সম্পন্ন করে প্রায় ৭০টি অসহায়, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাড়িতে বাড়িতে কোরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, সমাজে এমন অনেক পরিবার রয়েছে যারা আর্থিক সংকটের কারণে কোরবানি দিতে পারেন না। আবার আত্মসম্মানের কারণে কারও কাছে সাহায্যও চান না। মূলত এমন পরিবারগুলোর কথা বিবেচনায় নিয়েই তাদের এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তারা আরও জানান, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বছরের বিভিন্ন সময় নানা ধরনের সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। এর আগে চলতি রমজানের শুরুতে ৫ টাকা কেজি দরে সবজি বিক্রির আয়োজন করা হয়। এছাড়া ঈদুল ফিতরের আগে মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সম্বলিত ‘ঈদ বাজার’ কর্মসূচিও পরিচালনা করা হয়। এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

উদ্যোক্তাদের অন্যতম ইমদাদুল হক মিলন বলেন, উপকারভোগীদের মর্যাদা ও আত্মসম্মান রক্ষার বিষয়টি তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। এজন্য কোনো উপকারভোগীর ছবি বা ব্যক্তিগত পরিচয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয় না।

তিনি বলেন, সমাজের নীরব কষ্টে থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রয়াস ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।