ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে বিক্ষোভকারীদের উচ্ছ্বাস
ছবিঃ সংগৃহীত।
বিক্ষোভকারীদের দাবির কাছে অবশেষে মাথা নোয়ালো নরেন্দ্র মোদি সরকার। শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর পদত্যাগের খবরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন জেন জি (Gen Z) প্রজন্মের আন্দোলনকারীরা। একদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে, অন্যদিকে বেঙ্গালুরু, চেন্নাই ও কলকাতাতেও আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার দুপুরে কলকাতা সংলগ্ন হাওড়া ময়দানে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা সাধারণ পথচারীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন। পদত্যাগের খবর পৌঁছাতেই গত কয়েক দিনের মতো সেখানে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী জমায়েত হন। তারা প্রথমে সমবেত হয়ে জাতীয় সংগীত গান, এরপর নিজেদের মধ্যে ও পথচলতি মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন।
গত কয়েকদিন ধরে হাওড়া ময়দানে অনশনরত শিক্ষার্থী রোহিণী মালিক আন্দোলনের সফলতা নিয়ে বলেন, “এটা আমাদের আন্দোলনের জয়, জেন জি’র জয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাজনীতিমুক্ত এই আন্দোলনে আমাদের একটাই পতাকা ছিল—দেশের তেরঙ্গা পতাকা। নানা কটু মন্তব্য সত্ত্বেও আমরা লক্ষ্যে অবিচল ছিলাম। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হয়তো বুঝতে পেরেছেন তিনি সঠিকভাবে কাজ করতে পারছিলেন না, তাই পদত্যাগ করেছেন। আমাদের প্রত্যাশা, এবার শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বন্ধ হবে।”
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ছাত্র আন্দোলনের মূল দাবি ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, যা তিনি মেনে নিয়েছেন। সরকার এ বিষয়ে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে, যা নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে।”
অন্যদিকে, শিলিগুড়ির সাবেক মেয়র ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা গৌতম দেব কটাক্ষ করে বলেন, “যন্তর মন্তরের এই আন্দোলনকে প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা উপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু যখন আন্দোলন সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ল, তখন সরকার আলোচনায় বসতে বাধ্য হলো। পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন শিক্ষামন্ত্রী। এটি ছাত্র সমাজের বড় জয়।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সংসদ সদস্য জগন্নাথ সরকার বলেন, “বিজেপি একটি নীতিনিষ্ঠ দল, যা দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেয়। দেশের স্বার্থেই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি কোনোভাবেই কোনো কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত নন। বিজেপি সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতিতে বিশ্বাস করে।”