বাড়ছে তিস্তা-ধরলার পানি, লালমনিরহাটে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা
ফাইল ছবি
উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে লালমনিরহাটসহ রংপুর অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পাউবোর তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় উজানের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীগুলোর পানির প্রবাহ বেড়েছে। পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, সিন্দুর্না ও ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জের ভোটমারী, আদিতমারীর মহিষখোচা এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ও রাজপুর ইউনিয়নের তিস্তা ও ধরলা নদীতীরবর্তী নিচু এলাকায় ইতিমধ্যে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে আমন ধানের বীজতলা ও বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীপারের বাসিন্দা ও কৃষকদের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, উজানের ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টির কারণে তিস্তা ও ধরলার পানি বাড়ছে। পানির চাপ সামলাতে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসন ও জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।