আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পর থেকেই দেশটিতে একের পর এক জেলা দখল করছে তালেবান। তালেবানের আক্রমনের মুখে সরকারি বাহিনী কোনভাবেই দাড়িতে পারছে না। এ নিয়ে তালেবান দাবি করছে দেশটির ৮৫ শতাংশ এলাকা নিজেদের দখলে নিয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ জুলাই) রাশিয়ার রাজধানীয় মস্কোয় তালেবানের একটি প্রতিনিধি দল দেশটির সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে।
আফগান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পরোক্ষভাবে আফগান যুদ্ধে তার দেশের পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সমর্থন করে বলেছেন, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে দেশটি থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে।
আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ হানিফ আতমার মঙ্গলবার কাবুলে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, এসব জেলার নিয়ন্ত্রণ তালেবান গ্রহণ করেছে। আতমার বলেন, কোনো কোনো জেলা তালেবানরা জোর করে দখল করেছে এবং কোনো কোনো জেলা থেকে সরকারি সেনাদের ‘কৌশলগত কারণে’ সরিয়ে আনা হয়েছে। '
নেটোর ঠিক করা আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ সময়সীমার পরও যদি আফগানিস্তানে কোন বিদেশি সৈন্য রয়ে যায়, তবে তারা দখলদার বাহিনীতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে, বিবিসিকে বলেছে তালেবান।
আফগানিস্তান থেকে বিদেশী বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার আসন্ন উল্লেখ করে এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, মার্কিন ও ন্যাটোর সকল সৈন্য বাগরাম বিমান ঘাঁটি ছেড়ে চলে গেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু বলেছেন, তেহরান ও ইসলামাবাদের সহযোগিতা ছাড়া আফগান সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। তিনি নবম মস্কো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে এ মন্তব্য করেছেন।
মঙ্গলবার তীব্র লড়াইয়ের পর তাজিকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের প্রধান সীমান্ত ‘শির খান বন্দর’ দখল করে নেয় তালেবান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই ঘটনাকে গত দুই মাসের মধ্যে তালেবানের সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, আফগান বাহিনীর সদস্যরা শির খান বন্দর সংলগ্ন নিরাপত্তা চৌকি ত্যাগ করেছে। অনেকে সীমান্ত পার হয়ে পালিয়ে গেছেন। খবরে এই ঘটনাকে গত দুই মাসের মধ্যে তালেবানের সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, প্রতিবেশী আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না ইসলামাবাদ। তিনি আরও বলেছেন, পাকিস্তানের ভেতরে আমেরিকাকে সামরিক ঘাঁটি করতে দিয়ে পাক সরকার আরেকবার ভুল করবে না।
কোনো ধরণের রাজনৈতিক সমাধান না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান ছেড়ে গেলে গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশ্বকে সতর্ক করেছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।