কিয়ামতের দিন হাশরের মাঠে সব মানুষ আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশী হবে। ভয়ংকর সেদিন তিন ব্যক্তির ওপর আল্লাহ নারাজ থাকবেন।
আল্লাহ
বর্তমান সমাজে প্রতারণা এমনভাবে শিকড় গেড়েছে, যেন এটি জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় মানুষ একে অপরের প্রতি আস্থা রাখত, কথা মানে ছিল অঙ্গীকার, বিশ্বাস মানে ছিল বন্ধন। কিন্তু এখন সেই বন্ধন ছিন্ন হয়েছে স্বার্থের কাঁচি দিয়ে। সামান্য লাভের আশায় মানুষ ঠকাচ্ছে মানুষকে, প্রতারণা করছে আপনজনকেও।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহর বহু গুণবাচক নাম রয়েছে। যার মধ্যে একটি হলো ‘লতিফ’। ‘লতিফ’ শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো, পরম দয়ালু।
দুনিয়া স্থায়ী আবাস নয়। এখানের সব কিছু ক্ষণিকের ও ক্ষয়িষ্ণু। কিছুকাল দুনিয়া উপভোগ করার পর একসময় সব শেষ হয়ে যায়। আমরা দুনিয়াকে আরাম-আয়েশ ও ভোগ-বিলাসের ক্ষেত্র বানিয়ে নিয়েছি। অথচ এই দুনিয়া মুমিনের জন্য আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনের গন্তব্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্র মাত্র।
আল্লাহ তাআলা পরম দয়ালু, পরম করুণাময়। কিন্তু তাঁর রহমতের পাশাপাশি রয়েছে ন্যায়বিচারের গাম্ভীর্যও। কিছু পাপ এমন রয়েছে, যেগুলো মানুষের আত্মাকে কলুষিত করে এবং সমাজে অন্যায়ের আগুন জ্বালায়।
আল্লাহ তাআলা পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তবে বান্দার কিছু গুরুতর গুনাহ যেমন শিরক, মা-বাবাকে কষ্ট দেওয়া, মুমিনদের হত্যা করা, দোয়া না করা ইত্যাদির কারণে তিনি ক্রোধান্বিত হন। আল্লাহর রহমত লাভ ও তাঁর ক্রোধ থেকে বাঁচতে কিছু বিশেষ আমল কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
কখনো কি ভেবেছেন, এমন কোনো স্থান আছে যেখানে পা রাখলেই স্বয়ং আল্লাহ আপনার জন্য জান্নাতে বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন? ইসলাম এমনই এক স্থানের সন্ধান দেয়, যার প্রতিটি যাত্রা মহান প্রতিদানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পৃথিবীর সম্পদ সসীম কিন্তু মানুষের চাহিদা অসীম। চাহিদা পূরণের সুযোগও এখানে সীমিত। এখানে সব চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। অনেক কিছুই এখানে অপূরণীয় থেকে যায়।
আল্লাহভীতি বা তাকওয়া শুধু পরকালের মুক্তির চাবিকাঠি নয়, দুনিয়াতেও সম্মান, শান্তি ও মর্যাদা অর্জনের উপায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে বেশি সম্মানী, যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে।’ (সুরা হুজরাত: ১৩)
আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ভালোবাসাকে সব কিছু, এমনকি নিজের জীবনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া ঈমানের দাবি।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতএব, তোমার পালনকর্তার শপথ! তারা কখনো (পূর্ণ) মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদীয় বিষয়ে তোমাকে ফয়সালা দানকারী হিসেবে মেনে নেবে। অতঃপর তোমার দেওয়া ফয়সালার ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো ধরনের দ্বিধা-সংকোচ না রাখবে এবং সর্বান্তঃকরণে তা মেনে নেবে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৬৫)