দেশের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১২ জেলা আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত। এসব এলাকায় তীব্র খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পানির ওপর নাম জীবন হলেও যদি সেটা দুষিত হয় তাহলে পানিই হতে পারে নানা রোগের কারণ।
প্লাবিত
খুলনার পাইকগাছায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ গত দুই দিনেও মেরামত করা সম্ভব হয়নি। দু’দফায় মেরামত করা বাঁধ জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে ১৩ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার তিন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
কক্সবাজারের পেকুয়া-চকরিয়ায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে অন্তত ২০ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছে।
মৌলভীবাজারের মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানিবিপৎসীমার উপর দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার প্রায় সহস্রাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অনেকেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বিশেষ করে নৌকা না থাকায় বন্যার্তদের উদ্ধার করতে পারছেন না স্বেচ্ছাসেবীরা। হঠাৎ করে বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার কয়েক লাখ মানুষ।
লক্ষ্মীপুরে টানা বৃষ্টি ও মেঘনা নদীর অতিরিক্ত জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে প্লাবিত হয়েছে উপকূলীয় এলাকার কয়েকটি গ্রাম। এতে তলিয়ে গেছে বসতবাড়িসহ ফসলি জমি।
ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দেড়মাসের ব্যবধানে তৃতীয় দফায় বন্যার পানিতে ডুবছে জনপদ। গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজানের পানিতে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৭টি ভাঙন অংশে পানি প্রবেশ করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় টানা তিনদিনের বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার অন্তত ১০টি ইউনিয়নের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
ভারী বৃষ্টিপাতে বান্দরবানের অন্যান্য উপজেলার মতো জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
টানা তিনদিনের ভারী বর্ষণে উখিয়া উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে আনুমানিক ১০ হাজার মানুষ।