ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহড়ি ঢলে কুড়িগ্রামে দ্রুত বাড়ছে নদ-নদীর পানি। এতে নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ। চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে জেলার বন্যা কবলিত চরাঞ্চলের মানুষের।
প্লাবিত
ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত রয়েছে। বাঁধ ভাঙা এলাকা থেকে পানি অনেকটা সড়ে গেলেও নতুন নতুন এলাকায় প্লাবিত হয়েছে।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে বন্যাপ্রবণ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়ছে। সারাদেশে ধেয়ে আসছে বন্যা। ইতিমধ্যে পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরী নদীর পানি। ফেনীতে ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজানের ঢলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের চারটি স্থান ভেঙে জেলার ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে ফুলগাজী বাজারে পানি বাড়ায় ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
ভারতের উত্তর সিকিমে ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার কাউনিয়া, পীরগাছা ও গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে
টানা ভারী বৃষ্টি ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার মদন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
ভারী বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা, ধরলা, সানিয়াজান নদীর পানি বেড়েছে। এতে লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী এলাকা এবং চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ডুবে বন্যা সৃষ্টি হয়েছে।
ভারী বর্ষণ এবং উজানের ঢলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বুড়িতিস্তা নদীর বাঁধ ভেঙে প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফে ভারী বর্ষণে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কম হলেও ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।
ভারী বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামে দুধকুমার, ধরলা, ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বাড়া অব্যাহত রয়েছে।