ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে বেড়েছে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পানি। পানি বৃদ্ধি পেয়ে ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে জেলার নিম্নাঞ্চল। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বসতভিটা ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। বসতভিটা ছেড়ে অন্য স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে বন্যাকবলিত মানুষ।
প্লাবিত
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পুরাতন বাজার হিন্দুপাড়ায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চিনিকল কেরুর কোম্পানির দূষিত বর্জ্য পানি প্রবাহিত পাইপ ফেটে গেছে। প্রায় গত ২ মাস আগে পাইপ ফেটে দূষিত বর্জ্য প্লাবিত হয়ে বর্জ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।
বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামের নতুন নতুন এলাকা। ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে। নতুন করে বাঁধের কোন স্থানে ভাঙন দেখা না দিলেও ভারতের উজান থেকে এখনও পানি আসছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কয়েকদিনের টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের সাত থেকে আটটি গ্রামের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মুহুরী নদীর বাঁধের দুটি অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সদর ইউনিয়নের ছয়টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে মাতামুহুরী নদীতে।
নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টির মাত্রাটা বেশি। এমন আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
৫ দিনের টানা বর্ষণ ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। সুরমা, চেলা, মরা চেলা, চিলাই, চলতি, কালিউরি, খাসিয়ামারাসহ বিভিন্ন নদীনালার উপচেপড়া পানিতে হাওর, খাল-বিল, মাঠঘাট ভরে গিয়ে সৃষ্ট বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের মানুষজন।
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটাসহ সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এতে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাটেশ্বরীর সোনাহাট রেলসেতু পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এছাড়াও জেলার ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।