রাশিয়া বলেছে, দেশটির সেনারা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় একটি শহর ছেড়ে চলে এসেছে। এর কারণ হিসেবে মস্কো বলেছে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার হাত থেকে বাঁচতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রাশিয়ার সেনারা ওই শহর ছেড়ে দিয়ে সুবিধাজনক ফ্রন্টের দিকে চলে গেছে।
রুশ সেনা
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের দেশের রেলস্টেশন ও রেললাইনসহ মোট পাঁচটি জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। তবে এসব হামলায় হতাহতের বিষয়ে স্পষ্ট করা হয়নি।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রাণকেন্দ্রে বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কিয়েভে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া রুশ হামলা থেকে সাধারণ নাগরিকদের বাঁচাতে তাদের সরিয়ে নেয়ার কথাও জানিয়েছে ই্উক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।
রাশিয়া বলেছে, ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৮০ জন বিদেশি ভাড়াটিয়া সেনা নিহত হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, হামলায় পোল্যান্ডের সীমান্তবর্তী ইয়াভোরিভ শহরের ওই প্রশিক্ষণ শিবিরে থাকা বিপুল পরিমাণু অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস হয়েছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযানের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ দিনে দেশটি থেকে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে গেছে ২৫ লাখের বেশি মানুষ। এদের মধ্যে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার অনান্য দেশের নাগরিকও রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসি এর সহযোগী সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা প্রকাশ করেছেন যে যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছয় হাজার রুশ সৈন্য মারা গেছে।
রাজধানী কিয়েভের ওপর রাশিয়া সর্বাত্মক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের মেয়র বলেছেন, তার শহরে কোনো রুশ সেনা নেই। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎস্কো বলেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী অন্তর্ঘাতীদের চিহ্নিত করে নির্মূল করছে।
ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে প্রবেশ করেছে রাশিয়ার সেনারা। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এমনটি জানিয়েছে বিবিসি।
রাশিয়ার সাড়ে তিন হাজার সেনাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করছে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী। এছাড়া আরো দু’শ’ রুশ সেনাকে বন্দী করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন।