আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণা হলো, শিক্ষিত মানুষ, বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী সৎ, পূতঃপবিত্র। তাঁরা সফেদ। ঠিক যেন সার্ফএক্সেল দিয়ে ধোয়া ঝকঝকে পরিষ্কার সাদা কাপড়ের মতো। সারাজীবন আমরা জেনে এসেছি, রাজনীতিবিদরা হলেন যত নষ্টের গোড়া।
মতামত
স্মরণকালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার প্রশাসন যে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছে, জাতি তাকে চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। সমালোচকদের মুখে ছাই পড়েছে। তাকে যদি কোনো উচ্চ সম্মানজনক পদে রেখে দেওয়া যেত, তাহলে প্রতিবেশীসহ সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হতো। শুধু শহীদ রাষ্ট্রপতি ও দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার কাছেই নন, বরং গোটা বিশ্বের কাছেই তিনি শ্রদ্ধার পাত্র।
মানুষের সভ্যতার ইতিহাস মূলত পরিবর্তনের ইতিহাস। প্রতিটি বড় আবিষ্কার মানুষের জীবনযাত্রা, উৎপাদন পদ্ধতি এবং অর্থনীতিকে নতুন পথে নিয়ে গেছে। চাকা আবিষ্কার মানুষের চলাচলে এনে দিয়েছিল গতি, আর সেই গতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে প্রযুক্তির উন্নয়নে। শিল্পবিপ্লবের ধারাবাহিকতায় মানুষ যেমন উৎপাদনব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছে, তেমনি কৃষিও ধীরে ধীরে প্রবেশ করেছে নতুন প্রযুক্তির যুগে।
মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। সরাসরি এই তিন দেশ যুদ্ধ করলেও আক্রান্ত হয়েছে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, লেবাননও। এসব দেশের তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোতে একের পর এক হামলা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জ্বালানি তেল-গ্যাসের উৎস।
বন্ধ রয়েছে দেশগুলোর স্বাভাবিক কাজকর্ম। ব্যাহত হচ্ছে দেশে দেশে বিমান চলাচল। প্রবাসীরা কাজহীন অসহায় অবস্থায়।
১৯০৮ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের মসজিদ সোলেইমান এলাকায় তেল আবিষ্কারের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন ঘটে। ব্রিটিশ ব্যবসায়ী উইলিয়াম নক্স ডি’আর্সি-এর উদ্যোগে অনুসন্ধানের পরে ব্রিটিশের স্বার্থে পরিণত হয় ইরানের তেল। ব্রিটিশ সরকার অ্যাংলো-পারসিয়ান অয়েল কম্পানির বড় অংশের মালিকানা নেয় এবং আবাদান তেল শোধনাগার ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
কিন্তু এই তেল সম্পদ থেকে ইরান খুব কম লাভ পেত।
বাংলাদেশে শিক্ষা নিয়ে আমরা বড় বড় কথা বলতে ভালোবাসি। স্কুলের দেয়ালে লেখা থাকে— “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড”।
স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আমরা বিভিন্ন সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে একটি স্লোগান শুনেছি। সেটি হলো, ‘রাজনীতিমুক্ত ক্রীড়াঙ্গন চাই।’ এই স্লোগান এত বছরে কার্যক্ষেত্রে কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে—এই বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে যেটি গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হলো এই স্লোগানে কী বোঝাতে চাওয়া হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনে কোন বার্তা দেওয়া হয়েছে।
অভ্যুত্থান ঘটে, বিপ্লবের আওয়াজও কানে আসে। কিন্তু এসব উন্নতির অভ্যন্তরে যে অবনতিটা রয়ে গেছে, তার ধারাবাহিকতায় কোনো ছেদ পড়ে না। দুর্নীতি বাড়তেই থাকে, দুর্নীতির ভয়াবহ সব তথ্য উন্মোচিত হয়। সর্ষের ভিতর ভূত যে নিতান্ত অবাস্তব কল্পনা নয়, সেটা প্রমাণ করে দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যাপারেও দুর্নীতির অভিযোগের কথা শোনা যাচ্ছে।
কবি নজরুল ইসলামের সমাজ বিপ্লবকামী কালজয়ী প্রতিভা যে অল্প সময়ের মধ্যেই স্তব্ধ হয়ে গেল তার পেছনে পারিবারিক আর্থিক সংকট, পুত্র হারানোর শোক, স্ত্রীর অসুস্থতার বেদনা যেমন ছিল, তেমনি কিন্তু কাজ করেছে, যে আন্দোলনের ওপর তিনি ভরসা করেছিলেন, তার প্রবাহ স্তিমিত হয়ে যাওয়া। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মতো কবি এবং সমরেশ বসুর মতো কথাসাহিত্যিকের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ও কর্মী হয়ে যাওয়া এবং পরে দল ত্যাগ করার জন্যও কেবল তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে দুষলে চলবে না, আন্দোলনের অনগ্রসরতার বিষয়টিকেও বিবেচনায় নিতে হবে। সমাজ বিপ্লবের প্রতিহত দশা অবশ্য কেবল যে এ দেশে সত্য ছিল তা-ও নয়, ঘটেছে বিশ্বব্যাপী।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড—এই বাক্যটি আমরা এতবার উচ্চারণ করেছি যে, আজ আর ব্যথা অনুভূত হয় না। অথচ বাস্তবতা বলছে, সেই মেরুদণ্ডেই সবচেয়ে বেশি চাপ।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড আর শিক্ষকরা শিক্ষার মেরুদণ্ড—এই বাক্যটি আমাদের জাতীয় জীবনে এত বেশি ব্যবহৃত হয়েছে যে বাস্তবতার সঙ্গে এর দূরত্ব এখন চোখে পড়ার মতো।
যেকোনো সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। একটি সরকার যেভাবেই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করুক না কেন, তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। কারণ জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক। নির্বাচিত সরকারের জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে।
অবশেষে শেষ হলো ড. ইউনূসের শাসনামল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণের পরপরই ইউনূসের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। একটি গণঅভ্যুত্থানের পর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের অভিপ্রায় অনুযায়ী শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতি বরণ করে নেয়। ড. ইউনূস একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব।
মনে আছে গত বছর মার্চ মাসে নারী হেনস্থার সেই ঘটনাটা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে ‘ওড়না পরা’ নিয়ে প্রকাশ্যে হেনস্তার অভিযোগ উঠলে গ্রেফতার করা হয় মোস্তফা আসিফ অর্ণব নামের এক ব্যক্তিকে।
এ ভূখণ্ডে '১৯৪৭ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত মোট ৫ বার গণভোট অনুষ্টিত হয়েছিল। তবে প্রতিটি গণভোটেই সাধারন জনগণের জন্য একটি মাত্র প্রশ্ন ছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) সময় সংঘটিত ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় বিশ্ববাসীকে খুব গভীরভাবে নাড়া দিয়ে যায়। উভয় বিশ্বযুদ্ধে নারী ও শিশুসহ আনুমানিক ৬ কোটির বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবর্তে পৃথিবীব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ নানাবিধ মানবিক সংকট মোকাবেলার জন্য বিশ্বনেতৃত্বের যৌথ প্রচেষ্টায় ১৯৪৮ সালের ২৪ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে বিশ্বশান্তির সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান জাতিসংঘ।